নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ৮নং নোয়াখলা ইউনিয়নের নোয়াখলা গ্রামের ওয়ালী ভূঁইয়া বাড়ীর ৭ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ দেড় শতাধিক লোকের চলাচলের একমাত্র রাস্তা গাছ রোপন করে বন্ধ করে দিয়েছে ঐ এলাকার প্রভাবশালী আবদুল আলী মানিক ভূঁইয়া| এতে করে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারসহ দেড় শতাধিক লোকজন প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। চলাচলের রাস্তার গাছ সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-নিবেদনের ১ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। গতকাল শনিবার বিকেলে একজন মুক্তিযোদ্ধাসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী চাটখিল প্রেসক্লাবে এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজির আহমেদ, আবদুস সাত্তার ও এক মুক্তিযোদ্ধার কন্যা শিল্পী বেগমসহ কয়েকজন উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, দুইশত বছরের এ পুরাতন রাস্তাটি প্রায় ২ কিলোমিটার বিভিন্ন সময়ে দান-অনুদানে মেরামত হয়ে আসছে। গত ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে সড়কটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভূক্ত হয়। যাহার কোড নং-৪৭৫১০৫৪৭৮। নোয়াখলা গ্রামের প্রধান রাস্তা হতে মোল্লা বাড়ীর দরজা হইয়া পাটোয়ারী বাড়ির মৃত সামছুল আমিন বীর মুক্তিযোদ্ধা নামে সড়কটির নামকরণ ও করা হয়। গত ৩ বছর আগে সড়কটির প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা ইট দিয়ে সলিং করা হয়। রাস্তাটি গাছ লাগিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার পরপরই মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ উল্যার স্ত্রী আলেয়া বেগম (৭২) স্থানীয় এমপি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট গত ২৭ জুন আবেদন করেন। আবেদনের পর স্থানীয় এমপি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন জরুরীভাবে রাস্তাটিকে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজির আহমেদ এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত ফারাবির নিকট গেলে তিনি প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে চলাচলের রাস্তাটি খুলে দেওয়া ও বাধা প্রদানকারী মানিককে কারাদন্ড দেওয়ারও আশ্বাস দেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। অপরদিকে আবদুল আলী মানিক ভূঁইয়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী গণের বিরুদ্ধে আদালতে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন| আদালত থানাকে বিষয়টি তদন্ত করতে বললে এলাকাবাসীর সাক্ষ্য প্রমাণে তার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
এই বিষয়ে রাস্তা বন্ধকারী আবদুল আলী মানিক ভূঁইয়া’র সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমি আমার জায়গায় গাছ লাগিয়েছি। আপনার জায়গা হলেও রাস্তা বন্ধ করতে পারেন না বলে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে বলেন, আমি অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে নোয়াখালী আদালতে মামলা দায়ের করেছি।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি একজন কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করার দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি আমাকে এখনো তদন্ত রিপোর্ট দেননি। এখন আমি নিজেই দ্রুত এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।