নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত ও মোবাইলের ভিডিও ফুটেজ মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হল এবং পকেট গেট-সংলগ্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
হেনস্তার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন মানবজমিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম এবং প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসান।
জানা যায়, গভীর রাতে আবদুল মালেক উকিল হলে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ এবং সিনিয়র সহসভাপতি পক্ষের নেতা কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিকেরা।
অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের সময় ছাত্রদল কর্মী বাংলা বিভাগের আতিক হাসান, ইকোনমিকসের তানভীর ভূঁইয়া, আইন বিভাগের খান মোহাম্মদ রোম্মান, পদার্থবিজ্ঞানের ফাইসাল হোসাইন এবং কৃষি বিভাগের এম কে এম আকরাম খান সাংবাদিকদের শরীরে আঘাত করে মোবাইল ছিনিয়ে নেন। এ সময় সাংবাদিক মাহী ছিদ্দীকী সিয়ামকে মারধর করে তাঁর মোবাইলের ফুটেজ ডিলিট এবং সাংবাদিক মেহেদী হাসানকে হেনস্তা করা হয়।
মানবজমিনের প্রতিনিধি মাহি সিদ্দিকি সিয়াম বলেন, ‘হলের ছাদের দিকে মারামারি ও চিৎকারের শব্দ শুনে সেখানে যাই। এরপর দেখি ছাত্রদল সভাপতি-সেক্রেটারির পক্ষ সিনিয়র সহসভাপতি পক্ষের নেতা কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট দিয়ে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। আমি সেখানে ঘটনাটির ভিডিও করছিলাম। তখন ছাত্রদল কর্মী রোম্মান, আতিক, তানভীর ও ফাইসাল আমাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে।’
সিয়ামের অভিযোগ, ‘রোম্মান আমাকে হাতে-ঘাড়ে আঘাত করে মোবাইল দেখাতে বলেন। তারা জোরপূর্বক মোবাইল আনলক করিয়ে ভিডিও ফুটেজ মুছে দেন। পরে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার কথা বলেন।’
প্রতিদিনের সাংবাদের প্রতিনিধি মেহেদি হাসান বলেন, আমি ও মাহী সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদল কর্মী ফাইসাল হোসাইন আমাদের মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে বলেন। পরে তিনি আমাদের ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন।
এ বিষয়ে নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নোবিপ্রবিতে কর্মরত দুজন ক্যাম্পাস সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সদস্য। আমরা এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেব।’
নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, ‘আমি এসব বিষয়ে অবগত নই। এ বিষয়ে বিস্তারিতও জানি না। তবে আমি বিষয়টি নিয়ে ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে বলতে পারব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রক্টরিয়াল বডির একটি সভা ডাকছি। সাংবাদিকদের হেনস্তার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’