মানবিক সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানুষের মর্যাদাভিত্তিক নতুন বিশ্বসভ্যতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন এ কে এম গোলাম কিবরিয়া (সিআইপি)।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত ডি সি থার্টি সেভেন মেইন ইউনিয়ন হলে Alliance of South Asian American Labor (ASAAL)-এর ১৯তম বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
বক্তব্যে ক্যাপ্টেন কিবরিয়া বলেন, ‘ক্ষমতার ইতিহাস নয়, মানবমুক্তির ইতিহাস রচনা করুন।’ তাঁর মতে, রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা ক্ষমতা অর্জনের চেয়ে মানুষের জীবন থেকে দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও অসহায়ত্ব দূর করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু রাষ্ট্রের নেতা নয়, মানবতার নেতা হতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য এমন একটি পৃথিবী রেখে যেতে হবে, যেখানে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, গৃহহীনতা ও চিকিৎসাবঞ্চনা মানুষের জীবনের স্বাভাবিক বাস্তবতা হয়ে থাকবে না।
ক্যাপ্টেন কিবরিয়ার বক্তব্যে উঠে আসে তাঁর প্রস্তাবিত ‘হিউম্যান ইকুইটি সিভিলাইজেশন’ বা মানবিক সাম্যভিত্তিক বিশ্বসভ্যতার ধারণা। এ দর্শনের মূল লক্ষ্য হলো, প্রতিটি মানুষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবন, সমান সুযোগ এবং নিজের সম্ভাবনা বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য, অঙ্গরাজ্যের সিনেটর, সরকারি কর্মকর্তা, শ্রমিক সংগঠনের নেতা ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কংগ্রেস সদস্য গ্রেস মেং ও টমাস আর. সুয়োজি, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেট মেজরিটি লিডার আন্দ্রেয়া স্টুয়ার্ট-কাজিনস, অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশের সোনাইমুড়ী ও চাটখিল থেকে শুরু হওয়া মানবকল্যাণমূলক উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার কথাও উল্লেখ করা হয় তাঁর বক্তব্যে। ক্যাপ্টেন এ কে এম গোলাম কিবরিয়া ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপের চেয়ারম্যান। তাঁর উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ‘পাঁচশূন্য’ প্রকল্প এবং মানবিক কল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম।
সম্মেলন থেকে তাঁর বার্তা—‘এক মানবজাতি, এক অভিন্ন দায়িত্ব, মানবিক মর্যাদার এক নতুন বিশ্বসভ্যতা’।