ঢাকা    বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
চাটখিল ভয়েস

শেখ হাসিনা ইস্যুতে ঢাকা-দিল্লি টানাপোড়েন, নতুন বার্তা ভারতের


প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেখ হাসিনা ইস্যুতে ঢাকা-দিল্লি টানাপোড়েন, নতুন বার্তা ভারতের
ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন বার্তা দিচ্ছে ভারত।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশের চাপ এবং দুদেশের মধ্যে একের পর এক ইস্যুতে মতপার্থক্যের মধ্যেই ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন বার্তা দিচ্ছে ভারত। এবার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘পারস্পরিকতা’ বা ‘রেসিপ্রোসিটি’র ওপর জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি। কূটনৈতিক মহলে এটিকে ভারতের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে এবারই প্রথম ‘রেসিপ্রোসিটি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশে ভারতের লক্ষ্য হলো পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলা।

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান নতুন করে জানানোর প্রয়োজন নেই। আর শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ প্রচলিত ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ভারতের মুখপাত্রের বক্তব্যে ‘পারস্পরিকতা’ শব্দের ব্যবহারকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশও দুদেশের সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ওপর জোর দিয়ে আসছে। ফলে নয়াদিল্লির নতুন বক্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে একটি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা

দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট ভবিষ্যতে ভারত সফরের কোনো পরিকল্পনা নেই। এমনকি আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনেও তিনি অংশ না নিতে পারেন। যদিও ভারত তাকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

প্রতিবেদনটির দাবি, বাংলাদেশ মনে করছে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক ও এগিয়ে নিতে হলে ভারতের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান এবং অর্থবহ কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম জানিয়েছিলেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি প্রয়োজন। এর মধ্যে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের বিষয়টিও রয়েছে।

শেখ হাসিনার পাশাপাশি বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদেরও ভারতের কাছ থেকে ফেরত চাওয়া হয়েছে। এসব দাবি দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি করেছে।

সংকুচিত হচ্ছে কূটনৈতিক সমঝোতার জায়গা

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি এখন রাজনৈতিক পর্যায়ের আলোচনার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়গুলো যখন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়ছে, তখন কূটনৈতিক সমঝোতার সুযোগও সীমিত হয়ে আসছে।

শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেওয়া সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনের পর দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। তার বক্তব্য থেকে ভারত দ্রুত নিজেদের দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এক পর্যায়ে এটিকে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এতে ঢাকার অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি।

সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের একাধিক উদ্যোগ

এরপরও গত কয়েক মাসে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। উচ্চপর্যায়ের সফর ও বৈঠকের মাধ্যমে নয়াদিল্লি দুই দেশের যোগাযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করেছে।

গত বছরের শেষ দিকে শেখ হাসিনার পরিবর্তে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসেন। তার এই সফর বাংলাদেশে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।  আরও পড়ুনআরও পড়ুনভোট থেকে গণনা, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া যেভাবে

এরপর ফেব্রুয়ারিতে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এপ্রিলে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। বৈঠক শেষে ভারত জানায়, নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তারা আগ্রহী।

এ ছাড়া গত মাসে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলাম (অব.) নয়াদিল্লিতে বিমসটেকের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানদের বৈঠকে অংশ নেন। গত সপ্তাহে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনও ঢাকায় এসে বাংলাদেশের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন।

মোদি-তারেক বৈঠকের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা

কূটনৈতিক পর্যায়ের এসব যোগাযোগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতেই তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। পাশাপাশি আগামী মাসের ব্রিকস সম্মেলনেও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের বর্তমান ভূমিকার বিষয়টিও এ আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে সেই সম্ভাব্য সফর ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ফলে ভারতের পক্ষ থেকে ‘পারস্পরিকতা’র ওপর নতুন করে জোর দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিষয় : দিল্লি শেখ হাসিনা

আপনার মতামত লিখুন

চাটখিল ভয়েস

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


শেখ হাসিনা ইস্যুতে ঢাকা-দিল্লি টানাপোড়েন, নতুন বার্তা ভারতের

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশের চাপ এবং দুদেশের মধ্যে একের পর এক ইস্যুতে মতপার্থক্যের মধ্যেই ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন বার্তা দিচ্ছে ভারত। এবার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘পারস্পরিকতা’ বা ‘রেসিপ্রোসিটি’র ওপর জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি। কূটনৈতিক মহলে এটিকে ভারতের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে এবারই প্রথম ‘রেসিপ্রোসিটি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশে ভারতের লক্ষ্য হলো পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলা।

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান নতুন করে জানানোর প্রয়োজন নেই। আর শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ প্রচলিত ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ভারতের মুখপাত্রের বক্তব্যে ‘পারস্পরিকতা’ শব্দের ব্যবহারকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশও দুদেশের সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ওপর জোর দিয়ে আসছে। ফলে নয়াদিল্লির নতুন বক্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে একটি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা

দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট ভবিষ্যতে ভারত সফরের কোনো পরিকল্পনা নেই। এমনকি আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনেও তিনি অংশ না নিতে পারেন। যদিও ভারত তাকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

প্রতিবেদনটির দাবি, বাংলাদেশ মনে করছে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক ও এগিয়ে নিতে হলে ভারতের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান এবং অর্থবহ কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম জানিয়েছিলেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি প্রয়োজন। এর মধ্যে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের বিষয়টিও রয়েছে।

শেখ হাসিনার পাশাপাশি বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদেরও ভারতের কাছ থেকে ফেরত চাওয়া হয়েছে। এসব দাবি দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি করেছে।

সংকুচিত হচ্ছে কূটনৈতিক সমঝোতার জায়গা

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি এখন রাজনৈতিক পর্যায়ের আলোচনার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়গুলো যখন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়ছে, তখন কূটনৈতিক সমঝোতার সুযোগও সীমিত হয়ে আসছে।

শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেওয়া সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনের পর দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। তার বক্তব্য থেকে ভারত দ্রুত নিজেদের দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এক পর্যায়ে এটিকে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এতে ঢাকার অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি।

সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের একাধিক উদ্যোগ

এরপরও গত কয়েক মাসে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। উচ্চপর্যায়ের সফর ও বৈঠকের মাধ্যমে নয়াদিল্লি দুই দেশের যোগাযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করেছে।

গত বছরের শেষ দিকে শেখ হাসিনার পরিবর্তে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসেন। তার এই সফর বাংলাদেশে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।  আরও পড়ুনআরও পড়ুনভোট থেকে গণনা, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া যেভাবে

এরপর ফেব্রুয়ারিতে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এপ্রিলে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। বৈঠক শেষে ভারত জানায়, নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তারা আগ্রহী।

এ ছাড়া গত মাসে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলাম (অব.) নয়াদিল্লিতে বিমসটেকের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানদের বৈঠকে অংশ নেন। গত সপ্তাহে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনও ঢাকায় এসে বাংলাদেশের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন।

মোদি-তারেক বৈঠকের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা

কূটনৈতিক পর্যায়ের এসব যোগাযোগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতেই তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। পাশাপাশি আগামী মাসের ব্রিকস সম্মেলনেও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের বর্তমান ভূমিকার বিষয়টিও এ আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে সেই সম্ভাব্য সফর ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ফলে ভারতের পক্ষ থেকে ‘পারস্পরিকতা’র ওপর নতুন করে জোর দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


চাটখিল ভয়েস

ঠিকানা: চাটখিল-৩৮৭০, নোয়াখালী
মোবাইল: +880
ইমেইল: chatkhilvoice@gmail.com

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত চাটখিল ভয়েস