চাটখিল ভয়েস

কমিশন ও বিল অনিয়মের অভিযোগ, প্রকৌশলী ইকবাল বদলি


প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

কমিশন ও বিল অনিয়মের অভিযোগ, প্রকৌশলী ইকবাল বদলি
প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী (বর্তমানে সহকারী প্রকৌশলী) মো. ইকবাল হোসেনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ‘৫ শতাংশ’ কমিশন দাবির অভিযোগ, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রায় ৩৩ কোটি টাকার বিল পরিশোধ এবং সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে নিজ জেলায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের মতো নানা অভিযোগের মধ্যে তাকে বদলি করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সদর দপ্তর থেকে গত ৩১ আগস্ট জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় বদলি করা হয়। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘মেসার্স মনোয়ারা এন্ড ফাল্গুনি ট্রেডার্স’-এর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুলাই তদন্ত কমিটি গঠন করে এলজিইডি। পরে গত ২৮ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীন সরেজমিনে তদন্তে গেলে প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তার নিজ এলাকার কয়েকজন পরিচিত ঠিকাদারকে এনে নিজের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ানোর চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তের মধ্যেই লক্ষ্মীপুরের পিটিআইয়ের নির্মাণাধীন ভবনের কাজ নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, একাডেমিক ভবন ও মহিলা হোস্টেলের উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও জুন ক্লোজিংয়ে প্রকল্পের শতভাগ বিল পরিশোধ করা হয়। শতভাগ বিল পরিশোধের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর অসম্পূর্ণ অংশ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

এর আগে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫ শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগ ওঠে। মসজিদ, কালভার্ট, গভীর নলকূপসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরও বিল ছাড় করতে কমিশন দিতে হতো বলে কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন।

এদিকে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নিজ জেলায় পদায়নের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকার পরও ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন লক্ষ্মীপুরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ধারাবাহিক এসব অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পর এলজিইডির সদর দপ্তর থেকে তাকে তাৎক্ষণিক বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, শুধু বদলি করলেই হবে না। কাজ অসম্পূর্ণ রেখে শতভাগ বিল পরিশোধ এবং কমিশন বাণিজ্যের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তদন্তে যারা দায়ী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ যেন কোনোভাবেই ধামাচাপা না পড়ে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে এলজিইডি লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনকে বদলির বিষয়ে এলজিইডির সদর দপ্তর থেকে আদেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিষয় : অনিয়মের অভিযোগ বদলি প্রকৌশলী এলজিইডি লক্ষ্মীপুর

আপনার মতামত লিখুন

চাটখিল ভয়েস

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


কমিশন ও বিল অনিয়মের অভিযোগ, প্রকৌশলী ইকবাল বদলি

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী (বর্তমানে সহকারী প্রকৌশলী) মো. ইকবাল হোসেনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ‘৫ শতাংশ’ কমিশন দাবির অভিযোগ, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রায় ৩৩ কোটি টাকার বিল পরিশোধ এবং সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে নিজ জেলায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের মতো নানা অভিযোগের মধ্যে তাকে বদলি করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সদর দপ্তর থেকে গত ৩১ আগস্ট জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় বদলি করা হয়। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘মেসার্স মনোয়ারা এন্ড ফাল্গুনি ট্রেডার্স’-এর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুলাই তদন্ত কমিটি গঠন করে এলজিইডি। পরে গত ২৮ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীন সরেজমিনে তদন্তে গেলে প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তার নিজ এলাকার কয়েকজন পরিচিত ঠিকাদারকে এনে নিজের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ানোর চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তের মধ্যেই লক্ষ্মীপুরের পিটিআইয়ের নির্মাণাধীন ভবনের কাজ নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, একাডেমিক ভবন ও মহিলা হোস্টেলের উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও জুন ক্লোজিংয়ে প্রকল্পের শতভাগ বিল পরিশোধ করা হয়। শতভাগ বিল পরিশোধের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর অসম্পূর্ণ অংশ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

এর আগে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫ শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগ ওঠে। মসজিদ, কালভার্ট, গভীর নলকূপসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরও বিল ছাড় করতে কমিশন দিতে হতো বলে কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন।

এদিকে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নিজ জেলায় পদায়নের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকার পরও ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন লক্ষ্মীপুরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ধারাবাহিক এসব অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পর এলজিইডির সদর দপ্তর থেকে তাকে তাৎক্ষণিক বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, শুধু বদলি করলেই হবে না। কাজ অসম্পূর্ণ রেখে শতভাগ বিল পরিশোধ এবং কমিশন বাণিজ্যের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তদন্তে যারা দায়ী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ যেন কোনোভাবেই ধামাচাপা না পড়ে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে এলজিইডি লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনকে বদলির বিষয়ে এলজিইডির সদর দপ্তর থেকে আদেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


চাটখিল ভয়েস

ঠিকানা: চাটখিল-৩৮৭০, নোয়াখালী
মোবাইল: +880
ইমেইল: chatkhilvoice@gmail.com

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত চাটখিল ভয়েস