অন্ধকার দূর করে আলোর আগমন: রাসুল (সা.)-এর শুভ জন্ম ও জাহেলিয়াতের আরব
মানবজাতির ইতিহাসে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ (১২ই রবিউল আউয়াল) ছিল এক ঐতিহাসিক ও বরকতময় সময়। পবিত্র নগরী মক্কার সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের বনু হাশিম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর পিতা আবদুল্লাহ এবং মাতা মা আমিনা। পিতার মৃত্যুর পর এতিম হিসেবে জন্ম নেওয়া এই শিশুটিই পরবর্তী সময়ে বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
রাসুল (সা.)-এর আগমনের পূর্বে আরবের অবস্থা (আইয়ামে জাহেলিয়াত): নবীজি (সা.)-এর জন্মের পূর্বে সমগ্র আরব সমাজ অজ্ঞতা, অন্ধকার ও চরম পাপে নিমজ্জিত ছিল—যাকে ইতিহাসে 'আইয়ামে জাহেলিয়াত' বা 'অন্ধকার যুগ' বলা হয়। তখনকার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল:
আকিদা ও বিশ্বাসে বিভ্রান্তি: তাওহীদ বা একআল্লাহবাদের শিক্ষা ভুলে মানুষ ৩৬০টি মূর্তির পূজা করত। পবিত্র কাবাগৃহকেও তারা মূর্তিতে ভরিয়ে তুলেছিল।
নারীর অমর্যাদা ও কন্যাসন্তান হত্যা: নারীদের ছিল না কোনো সামাজিক অধিকার বা সম্মান। এমনকি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করাকে চরম লজ্জার মনে করে তাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো।
গোত্রীয় সংঘাত ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: তুচ্ছ ঘটনা, সামান্য কথা-কাটাকাটি কিংবা ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে বছরের পর বছর, এমনকি পুরুষানুক্রমে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ লেগে থাকত।
নৈতিক অবক্ষয়: মদ, জুয়া, ব্যভিচার, সুদ ও ছিনতাই ছিল তৎকালীন সমাজজীবনের নিত্যদিনের অনুষঙ্গ। দুর্বলদের ওপর শক্তিমানদের অত্যাচার ছিল স্বাভাবিক নিয়ম।
আলোর দিশারী হিসেবে রাসুল (সা.): এমন এক অন্ধকার ও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত মানবজাতিকে সত্য, সুন্দর ও আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহ তাআলা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ (রহমাতুল্লিল আলামিন) প্রেরণ করেন। তাঁর আগমন কেবল একটি শিশুর জন্ম ছিল না, বরং তা ছিল সত্যের জয় এবং অন্যায়ের অবসান ঘটার সূচনা।
আজকের শিক্ষা: ১. ঘোর অন্ধকার বা প্রতিকূল সমাজেও সত্যের আলো ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। ২. যেকোনো অন্যায় ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা জরুরি।
(রেফারেন্স: আর-রহীকুল মাখতুম, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া)