চাটখিল ভয়েস

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামীকাল শুক্রবার পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইতিমধ্যে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানিয়েছেন। সূত্রের একজনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবারই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করেছেন এবং আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এ বিষয়ে রয়টার্সের ফোন ও বার্তার জবাব দেননি। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মুখপাত্ররাও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।

ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে দমন-পীড়ন চালানোর নির্দেশ দেওয়ার দায়ে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০২৪ সালের ওই অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হন। তবে শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

চলতি মাসে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর নতুন সরকারের ওপর তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদ থেকে সরাতে চাপ তৈরি হয়।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক। নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাষ্ট্রপতির পদটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ওই আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তারও আগে, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। বর্তমানে আওয়ামী লীগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল।

গত বছরের ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করছেন। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসে।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। পরে সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে।

যদিও এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা তিনটি সূত্রই জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগামীকাল দেওয়া হতে পারে।

বিষয় : বিএনপি পদত্যাগ মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রী

আপনার মতামত লিখুন

চাটখিল ভয়েস

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামীকাল শুক্রবার পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইতিমধ্যে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানিয়েছেন। সূত্রের একজনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবারই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করেছেন এবং আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এ বিষয়ে রয়টার্সের ফোন ও বার্তার জবাব দেননি। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মুখপাত্ররাও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।

ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে দমন-পীড়ন চালানোর নির্দেশ দেওয়ার দায়ে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০২৪ সালের ওই অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হন। তবে শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

চলতি মাসে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর নতুন সরকারের ওপর তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদ থেকে সরাতে চাপ তৈরি হয়।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক। নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাষ্ট্রপতির পদটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ওই আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তারও আগে, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। বর্তমানে আওয়ামী লীগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল।

গত বছরের ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করছেন। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসে।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। পরে সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে।

যদিও এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা তিনটি সূত্রই জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগামীকাল দেওয়া হতে পারে।


চাটখিল ভয়েস

ঠিকানা: চাটখিল-৩৮৭০, নোয়াখালী
মোবাইল: +880
ইমেইল: chatkhilvoice@gmail.com

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত চাটখিল ভয়েস