নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ৫নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মলংচর ভূঁইয়া বাড়ির প্রবাসী সিরাজুল ইসলাম (৫০) কে তার স্ত্রী ও সন্তানেরা মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। তিনি এখন স্থানীয় মসজিদে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ বিষয়ে প্রায় দেড় মাস আগে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দেখা করে তার উপর নির্যাতনের কাহিনী তুলে ধরেন। এ বিষয়ে থানা পুলিশ ও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতে করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে ভূক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিরাজুল ইসলাম ও রেহানা বেগম (৪৫) এর সাথে প্রায় ৩০ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর সিরাজুল ইসলাম সৌদি আরবে গিয়ে চাকুরি করেন। দুই বছর পরপর ছুটিতে বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। তাদের দুই ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। তিনি মোট ১৫ বছর সৌদিতে চাকুরি করেন। তার এ ১৫ বছরের যাবতীয় আয়ের টাকা স্ত্রী রেহানা বেগমের ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন। সিরাজের স্ত্রী রেহানা প্রতারনার মাধ্যমে তার নিজের নামে সকল সম্পত্তি খরিদ করে। এমনকি সিরাজের বসতবাড়ির সম্পত্তিও রেহানা প্রতারনার মাধ্যমে তার নামে লিখে নেয়। কয়েক বছর আগে সিরাজ প্রবাস থেকে এসে ঢাকায় চাকুরি শুরু করেন।
২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় তার ডান পায়ে মারাত্মক আঘাত পেয়ে পঙ্গু হয়ে পড়েন। স্ত্রী-সন্তানেরা তাকে চিকিৎসা না করিয়ে তাকে তার ঢাকায় নির্মিত বিল্ডিং এর একটি কক্ষে আটক করে রাখে এবং আত্মীয়স্বজন কারো সাথে দেখা করতে দেয় না এবং চিকিৎসা ও সেবা করে না। এ নিয়ে তার সাথে স্ত্রী সন্তানের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্ত্রী রেহানা, মেয়ে হাসনাত জাহান রুনা (২৭) ছেলে রেসালাত হাসান (২৫) ছোট ছেলে নাহিদ হাসান (২২) তাকে বেধম মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয় এবং তাকে বলে তোর নামে কোনো সম্পত্তি নেই, তুই এখানে আর আসতে পারবি না। গত ১৩ সেপ্টেম্বর এ ঘটনা ঘটে।
তারপর থেকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মসজিদের এক কোনে আশ্রয় নেয়। তার স্ত্রী রেহানার ভয়ে স্থানীয় কেউ ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সিরাজকে বাড়িতে আশ্রয় দিচ্ছে না। এলাকায় রেহানা বেগমকে সবাই নানী নামে চিনে। সে একজন মামলাবাজ মহিলা। সে ১৮টি মামলা করে গ্রামের শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। তার সাথে থানা পুলিশের সখ্যতা রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।
মলংচর গ্রামের অধিবাসী চাটখিল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিন উদ্দিন, এডভোকেট আনোয়ারা হোসেন, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া (৫০), আবদুল মন্নান (৭০), ছানা উল্যা (৬০) প্রবাসী আলমগীর হোসেন সহ অনেকে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং তার স্ত্রী সন্তানদের বিচার দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রেহানা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, তাদেরকে ভরনপোষণ না দেওয়ায় তারা এ কান্ড করিয়েছেন। এটা করা ঠিক হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে চাটখিল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি এই মুহুর্তে আমার মনে পড়ছে না, আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি জানার পরে তখনই থানা পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলাম। সিরাজুল ইসলাম এখন মসজিদে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এটা আমার জানা নেই, আমি নিজেই দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিব।
আপনার মতামত লিখুন