এমপি’র নির্দেশ উপেক্ষিত চাটখিলে রাস্তার উপর গাছ লাগিয়ে যাতায়াত বন্ধ, এলাকাবাসীর ভোগান্তি চরমে, অজ্ঞাত কারনে উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ৮নং নোয়াখলা ইউনিয়নের নোয়াখলা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা ৭ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সহ শতশত লোকজনের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে ঐ এলাকার প্রভাবশালী আবদুল আলিম মানিক ভূঁইয়া| এই ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমির নিকট অভিযোগ করলেও অদ্যাবধি অজ্ঞাত কারণে উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না| তাই এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে|
ভুক্তভোগীরা সহ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড়শত বছর পূর্ব থেকে এই রাস্তা দিয়ে এলাকাবাসী চলাচল করতো| গত ২৪ ও ২৫ জুন দুইদিনে ঐ এলাকার প্রভাবশালী মানিক ভূইয়া রাস্তার মধ্যখানে বিভিন্ন গাছ লাগিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়| ভুক্তিভোগীদের মধ্যে থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আলেয়া বেগম (৭০) এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গত ২৬ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত ফারাবীর নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন| এমপি মাহবুব উদ্দিন খোকন জরুরীভাবে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে নির্দেশ দেন|
এইদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা নজির আহম্মেদ সহ ভুক্তভোগীরা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নিশাত ফারাবীর নিকট গেলে তিনি, প্রাথমে জরুরী ভিত্তিতে এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবেন বলেও অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নেননি বলে ভুক্তভোগীরা জানান| গত ২৫ জুলাই বীর মুক্তিযোদ্ধা নজির আহম্মেদ সহ ভুক্তভোগীরা চাটখিল প্রেসক্লাবে এসে তাদের দুর্ভোগের বিবরণ তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি কামনা করেন|
এই বিষয়ে তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি স্থানীয় চেয়ারম্যান কে দায়িত্ব দিয়েছি, আমাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য| তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো| এরপর ইউএনও’র বক্তব্য সহ ভুক্তভোগীদের অভিযোগটি গত ২৭ জুলাই ˆদনিক সংবাদ সহ ৮/৯ টি জাতীয় ˆদনিক পত্রিকায় এই বিষয়ে নিউজ প্রকাশিত হয়| এদিকে গত ২৭ জুলাই নোয়াখলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী মোঃ মানিক হোসেন ইউএনও’র কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন| হাজী মানিক হোসেন জানান, তিনি রাস্তাটির বেড়া দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইউএনও’র কাছে অনুরোধ জানান| তদন্ত প্রতিবেদন গত ২৮ জুলাই ইউএনও’র অফিসে জমা হয়|
প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর ইউএনও মিজানুর রহমানের কাছে রাস্তাটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জরুরীভাবে ব্যবস্থা নিবেন বললেও অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না|
এই বিষয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তার মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি ফোন কেটে দেন|
আপনার মতামত লিখুন