চাটখিল ভয়েস

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সিজেপির


প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সিজেপির

আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো বহাল রাখতে এবং তাদের হয়রানি করতে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক আদেশকে ব্যবহার করতে পারে সরকার। এ অবস্থায় প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব মামলা প্রত্যাহার না হলে আবারও ভারতজুড়ে আন্দোলন শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিল্লির যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে করা একাধিক আবেদনের শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের জোরপূর্বক ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া যাদের আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই এবং যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের মুক্তিরও নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে আদালত একই সঙ্গে জানিয়ে দেয়, দিল্লি সরকার (এনসিটি) ও অন্যান্য রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে দায়ের হওয়া এফআইআরগুলোর তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। তবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এ সুরক্ষা অবশ্য অপরাধমূলক অতীত রয়েছে— এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

এরপরই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, আদালতের এ নির্দেশ গোটা দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, গত ২৫ জুলাই সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আদালতের এ নির্দেশ তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সরকার তখন আশ্বাস দিয়েছিল, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কাউকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হয়রানি করা হবে না। ওই আশ্বাসের ভিত্তিতেই সিজেপি সারা দেশের আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল।

সৌরভ দাসের দাবি, এখন তাদের আশঙ্কা হচ্ছে, ভারত সরকার ও বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলো প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের এ আদেশকে কাজে লাগিয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো বহাল রাখবে এবং তাদের হয়রানি করবে।

তার ভাষায়, শুরু থেকেই তাদের আশঙ্কা ছিল, আদালতকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত দমন করা হতে পারে।

আরও পড়ুনআরও পড়ুনচাপে পড়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করবে শুভেন্দু সরকার

সৌরভ দাস বলেন, সরকার সিজেপি ও আন্দোলনকারীদের যে আশ্বাস দিয়েছিল, তা জানার পরও আদালতে সরকারের আইনজীবীরা এ আদেশের বিরোধিতা করেননি, যা উদ্বেগজনক।

তার দাবি, জনসমক্ষে দেয়া এমন প্রতিশ্রুতি গোপনে দুর্বল করে দেওয়া যায় না। কেন্দ্র ও বিজেপি/এনডিএ-শাসিত রাজ্য সরকার চাইলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা এফআইআর প্রত্যাহার করতে পারে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

এদিন সোমবারের মতো মঙ্গলবারও সরকারকে দেয়া সময়সীমার কথা স্মরণ করিয়ে দেন সৌরভ দাস। তিনি বলেন, ‘সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময়সীমা আজ শেষ হচ্ছে। আমরা আবারও আহ্বান জানাচ্ছি— সব এফআইআর প্রত্যাহার করুন, ভবিষ্যতে কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা দিন এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করুন।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা হলে সিজেপির সামনে আবারও দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। তার ভাষায়, ‘যে সরকার নিজের দেওয়া কথা রাখে না, তারা তরুণদের নীরব থাকার আশা করতে পারে না। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে ভারতের রাজপথ আবারও তরুণদের কণ্ঠে মুখর হবে।’

এর আগে গত সোমবার সিজেপির আরেক মুখপাত্র অশুতোষ রানকা অভিযোগ করেন, সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং শত শত আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব এফআইআর দ্রুত প্রত্যাহার, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ও বিজেপি-সমর্থিত রাজ্যগুলোর পুলিশের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন কোনো মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তা না হলে তারা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

প্রসঙ্গত, প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে লাগাতার আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

২০ জুলাই তারা ‘সংসদ চলো মার্চ’ কর্মসূচি পালন করে। ওই কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহার করা হয়। এ ঘটনায় পালটাপালটি হামলায় আহত হন শতাধিক পুলিশ সদস্যও।

পরে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকের পর গত শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সিজেপি।

বিষয় : সুপ্রিম কোর্ট ককরোচ পার্টি নরেন্দ্র মোদি এনসিটিবি

আপনার মতামত লিখুন

চাটখিল ভয়েস

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সিজেপির

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো বহাল রাখতে এবং তাদের হয়রানি করতে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক আদেশকে ব্যবহার করতে পারে সরকার। এ অবস্থায় প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব মামলা প্রত্যাহার না হলে আবারও ভারতজুড়ে আন্দোলন শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিল্লির যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে করা একাধিক আবেদনের শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের জোরপূর্বক ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া যাদের আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই এবং যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের মুক্তিরও নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে আদালত একই সঙ্গে জানিয়ে দেয়, দিল্লি সরকার (এনসিটি) ও অন্যান্য রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে দায়ের হওয়া এফআইআরগুলোর তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। তবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এ সুরক্ষা অবশ্য অপরাধমূলক অতীত রয়েছে— এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

এরপরই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, আদালতের এ নির্দেশ গোটা দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, গত ২৫ জুলাই সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আদালতের এ নির্দেশ তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সরকার তখন আশ্বাস দিয়েছিল, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কাউকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হয়রানি করা হবে না। ওই আশ্বাসের ভিত্তিতেই সিজেপি সারা দেশের আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল।

সৌরভ দাসের দাবি, এখন তাদের আশঙ্কা হচ্ছে, ভারত সরকার ও বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলো প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের এ আদেশকে কাজে লাগিয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো বহাল রাখবে এবং তাদের হয়রানি করবে।

তার ভাষায়, শুরু থেকেই তাদের আশঙ্কা ছিল, আদালতকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত দমন করা হতে পারে।

আরও পড়ুনআরও পড়ুনচাপে পড়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করবে শুভেন্দু সরকার

সৌরভ দাস বলেন, সরকার সিজেপি ও আন্দোলনকারীদের যে আশ্বাস দিয়েছিল, তা জানার পরও আদালতে সরকারের আইনজীবীরা এ আদেশের বিরোধিতা করেননি, যা উদ্বেগজনক।

তার দাবি, জনসমক্ষে দেয়া এমন প্রতিশ্রুতি গোপনে দুর্বল করে দেওয়া যায় না। কেন্দ্র ও বিজেপি/এনডিএ-শাসিত রাজ্য সরকার চাইলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা এফআইআর প্রত্যাহার করতে পারে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

এদিন সোমবারের মতো মঙ্গলবারও সরকারকে দেয়া সময়সীমার কথা স্মরণ করিয়ে দেন সৌরভ দাস। তিনি বলেন, ‘সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময়সীমা আজ শেষ হচ্ছে। আমরা আবারও আহ্বান জানাচ্ছি— সব এফআইআর প্রত্যাহার করুন, ভবিষ্যতে কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা দিন এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করুন।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা হলে সিজেপির সামনে আবারও দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। তার ভাষায়, ‘যে সরকার নিজের দেওয়া কথা রাখে না, তারা তরুণদের নীরব থাকার আশা করতে পারে না। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে ভারতের রাজপথ আবারও তরুণদের কণ্ঠে মুখর হবে।’

এর আগে গত সোমবার সিজেপির আরেক মুখপাত্র অশুতোষ রানকা অভিযোগ করেন, সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং শত শত আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব এফআইআর দ্রুত প্রত্যাহার, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ও বিজেপি-সমর্থিত রাজ্যগুলোর পুলিশের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন কোনো মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তা না হলে তারা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

প্রসঙ্গত, প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে লাগাতার আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

২০ জুলাই তারা ‘সংসদ চলো মার্চ’ কর্মসূচি পালন করে। ওই কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহার করা হয়। এ ঘটনায় পালটাপালটি হামলায় আহত হন শতাধিক পুলিশ সদস্যও।

পরে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকের পর গত শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সিজেপি।


চাটখিল ভয়েস

ঠিকানা: চাটখিল-৩৮৭০, নোয়াখালী
মোবাইল: +880
ইমেইল: chatkhilvoice@gmail.com

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত চাটখিল ভয়েস